চট্টলা সংবাদ প্রতিবেদন :
বিচারপ্রার্থীকে মারধরের প্রতিবাদ করায় লোহাগাড়ায় এক সাংবাদিক ও এক শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায়।
আহতরা হলেন চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণের সহ-সম্পাদক ওমর ফারুক মাসুম (২৮) এবং আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. শহিদ (২৫)। তাদের মধ্যে শহিদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ঘটনার বর্ণনায় ওমর ফারুক মাসুম জানান, কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদে বিচারপ্রার্থী সাত্তার নামের এক ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি ও শহিদ হামলার শিকার হন। তিনি বলেন, “আমরা মোটরসাইকেলে উপজেলা পরিষদের দিকে যাচ্ছিলাম। পথে যোহরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ইউপি সদস্য হাবিবের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক আমাদের উপর হামলা চালায়। আমি কোনো অপরাধ করিনি, তবুও দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তারা আমাদের মারধর করে।”
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান, আহতদের মধ্যে মাসুমের নাকে আঘাত রয়েছে। অন্যদিকে শহিদ কয়েকবার বমি করেছেন এবং তার বুকে আঘাত লেগেছে। তাকে সিটি স্ক্যান করার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
লোহাগাড়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থলে স্থানীয় বিচারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল, যার জেরে এ হামলা হয়। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি।”
এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এস. এম. রানা এবং সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক। লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম. সাইফুল্লাহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা মিনহাজও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ নেতার এই হামলার পর থানায় গিয়ে খোশগল্পে মেতে ওঠার বিষয়টি নিয়েও ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা এ ঘটনায় আইনের কার্যকারিতা ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহল।