বৃহস্পতিবার , ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাঁশখালী উপজেলা

নুরুল আজিম ইমতিয়াজ: চট্টগ্রামের ৩৯২ কি.মি বাঁশখালী উপজেলাটি হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। বাঁশখালী ভূ-প্রকৃতির নৈসর্গিক ভূমি। সবুজে সাজানো প্রকৃতির কুঁড়েঘর। প্রকৃতি অপরুপ সৌন্দর্য্যের দৃশ্য এই ছোট্ট বাঁশখালীতে উপভোগ করা যায়।

নান্দনিক সৌন্দরর্য্যর বাঁশখালীর উত্তরে কোল ঘেঁষে আছে সাঙ্গু নদী, পূর্বে সবুজে মোড়ানো উঁচু উঁচু পাহাড়, পশ্চিমে বিশাল জলরাশি সমুদ্র বঙ্গোপসাগর। দক্ষিণে রয়েছে লবণের মাঠ।

চা বাগান: বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত এই চা বাগান। বাংলাদেশের সবুজ চা-পাতার গুণগত মানের দিক দিয়ে চট্টগ্রামের ৩য় অবস্থানে। প্রায় ৩,৪৭২.৫৩ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই চা বাগানটি ব্র্যাকের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। এখানে প্রায় ৭০০ একর জায়গায় চা পাতা উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের কাজ চলে।
বৈলগাঁও চা বাগানে চলতি বছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লক্ষ ৫০ হাজার কেজি। চা-বাগানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে, প্রতিদিন ছুটে আসে নানা প্রান্তের মানুষ।

ইকো-পার্ক: বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নে অবস্থিত বাঁশখালী ইকো-পার্ক। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত উঁচু-নিচু পাহাড় বাংলাদেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু। দুটি চড়া, বামের চড়া এবং ডানের চড়া রয়েছে এই ইকো-পার্কে। ছড়াগুলো প্রায় লেকের মতো। নৌকায় চড়ে কাপ্তাই লেকের স্বাদ উপভোগ করা যায়। এখানে আরো আছে ওয়াচ টাওয়ার যেখান থেকে বঙ্গোপসাগর দেখা যায়। এখানে আরো আছে চিড়িয়াখানা আর কৃত্রিম লেক সেখানের মনোরম পরিবেশে দর্শনার্থীরা বসে স্বস্তির নিঃশ্বাস পেলে। বাঁশখালীর ইকো-পার্কের সৌন্দয্য যেকোনও পর্যটককে মুগ্ধ করবে নিঃসন্দেহে। প্রতিনিয়ত পার্কটি দেখতে ছুটে আসে দেশের নানা প্রানৃতের মানুষ।

সমুদ্র সৈকত: বাঁশখালী বাহারছাড়া ইউনিয়নে মিনি কক্সবাজার খ্যাত বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত। এখানে বসেই কক্সবাজার ভ্রমণে স্বাদ পাওয়া যাবে। এখানের বিশাল আচড়ানো ঢেউ আর বালিয়াড়ি বীচ এর কারণে দর্শনার্থীরা মিনি কক্সবাজার নামে ডাকে। এ সৈকতে উপভোগ করা যাবে গভীর সমুদ্রের আঁচড়ানো ঢেউ। ঝাউ বাগানে বসেই এটি দারুণভাবে উপভোগ করা যাবে। বাঁশখালীতে “জলকদর” খালসহ অসংখ্য কুমারী ছড়াও রয়েছে এই ছোট্ট উপজেলায় ।

আমেনা পার্ক: বাঁশখালী পৌরসভার পূর্বদিকে ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠেছে আমেনা পার্ক। এই পার্কটি পাহাড়ের উঁচু উঁচু এলাকা জুড়ে অবস্থিত। দৃষ্টনন্দন কারুকাজের মাধ্যমে পার্কটি সাজানো হয়েছে। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার জন্য নান্দনিক সিঁড়ি আর বসার জন্য সুসজ্জিত ছাতার মতো সিট রয়েছে।
নিরিবিলি পরিবেশ, সবুজের সমারোহ, নানরকম ফলজ-বনজ গাছ আর বাহারি রঙের ফুলের গাছ। নানা রকম পাখির কলকাকলীতে দর্শনার্থীরা বেশ আনন্দ পায় । এই পার্কে আরো আছে দৃষ্টি নন্দন বাঘ, সিংহ, জেব্রাসহ বেশকয়েকটি প্রাণির ভাস্কর্য। পৌরসভার ভিতরে হওয়ায়। ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের প্রচুর ভীড় হয়।

প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের ছোট্ট এই বাঁশখালীকে পর্যটন উপজেলা ঘোষণা এখন সময়ের দাবি। এই উপজেলাকে পর্যটন উপজেলা ঘোষণা করা হলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে খাতে বৃহৎ একটা আয়ের উৎস তৈরী হবে।পর্যটন বাঁশখালী ঘোষণার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সুদৃষ্টি দরকার।প্রধান উপদেষ্টার আন্তরিক প্রচেষ্টা পেলেই পর্যটন উপজেলা হওয়ার যে স্বপ্ন বাঁশখালীর তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে। সে স্বপ্ন পূরণ হবে।