বৃহস্পতিবার , ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পঙ্গু ছেলে, খালেদা জিয়ার জানাজায় স্বামীর মৃত্যুতে দিশাহারা তাহেরা

একই পরিবারের ওপর নেমে এসেছে পরপর দুটি ভয়াবহ বিপর্যয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে ১৫ বছরের ছেলে তাহসীন হোসেন। এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে মারা গেছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মো. নিরব হোসেন (৫৬)।
এই ঘটনায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী তাহেরা বেগম (৪০)। স্বামী হারানোর শোকের পাশাপাশি পঙ্গু ছেলেকে নিয়ে ভবিষ্যৎ জীবন কীভাবে চলবে—এ দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন তিনি।
তাহসীন হোসেন গত ৪ আগস্ট ঢাকার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে মেরুদণ্ডে গুলিবিদ্ধ হন। এরপর দেশ ও বিদেশে চিকিৎসা করানো হলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন। হাঁটতে না পারার পাশাপাশি স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রমও পরিচালনা করতে পারছেন না তিনি।
নিরব হোসেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড়ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আর্থিক অনটনের কারণে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার বড় মগবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। গত বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর বাউফলে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। বাবার জানাজায় হুইলচেয়ারে করে অংশ নেয় পঙ্গু ছেলে তাহসীন হোসেন।
তাহেরা বেগম বলেন, “চার সদস্যের সংসারে আমার স্বামীই একমাত্র উপার্জন করতেন। ছেলে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার পর থেকে ওকেই সব দেখভাল করত। এখন স্বামী নেই, কোনো আয়ের পথও নেই। কীভাবে চলব জানি না।”
পরিবারের এই করুণ অবস্থার খোঁজ নিতে স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি বিএনপির নেতারাও জানাজায় অংশ নেন। তারা নিহত নিরব হোসেন ও আহত জুলাইযোদ্ধা তাহসীনের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্বামী হারানো ও পঙ্গু ছেলেকে নিয়ে তাহেরা বেগমের সামনে এখন অনিশ্চিত এক ভবিষ্যৎ।