চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইদিলপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মীদেরকে দাঁড়িপাল্লার প্রচারে বাধা দিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও মহিলা জামায়াতের কর্মীদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাদের কাছ থেকে সাংগঠনিক খাতা কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় এক ঘন্টা বাকবিতন্ডার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা স্থান ত্যাগ করে।
গতকাল সোমবার বিকাল চারটায় সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ইদিপুর গ্রামের জেবল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, পূর্ নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের মহিলা দায়িত্বশীলরা সোমবার বিকালে দাঁড়িপাল্লার প্রচারে নামলে দক্ষিন ইদিলনপুর গ্রামের জেবল হোসেনের বাড়িতে তাদেরই একজন নারী কর্মী চা খেতে অনুরোধ জানান। এসময় তারা সেখানে আপ্যায়ন গ্রহণ করতে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। এসময় বিএনপি সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম সোহাগ, যুবদল কর্মী আরিফ হোসেন সেখানে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা মহিলা জামায়াতের ওয়ার্ড দায়িত্বশীল মোর্শেদা বেগমকে গালিগালাজ করে। এসময় আরিফ ও সোহাগ তাদেরকে আইডি কার্ড নিচ্ছে এবং বিকাশ নম্বর তালিকা করছে বলে হেনস্তা করে। আর কোনদিন যেন না আসে সেজন্য বারবার হুমতি দিতে থাকে। পরে মহিলা জামায়াতের কর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড নেতাদের ফোন করলে সেখানে ওয়ার্ড সভাপতি ডা. নুরুল হুদা শাহাবুদ্দীন ও সেক্রেটারি মো. কাইয়ুম, শিবিরের সাবেক পৌর সভাপতি আনোয়ার হোসেন সুমন, জামায়াত নেতা এডভোকেট শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় উভয় দলের কর্মীদের মধ্যে ঘন্টাখানেক বাকবিতন্ডা হয়। পরে সেখানে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন রফিকও আসেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানতে চাইলে ওয়ার্ড সভাপতি ডা. নুরুল হুদা শাহাবুদ্দীন জানান, আমাদের মহিলা শাখার দায়িত্বশীল মোর্শেদা বেগম কর্মীদের নিয়ে প্রতিদিন বিকালে প্রচারণা করেন। তাদের কাছে একটি শিডিউল আছে। প্রত্যেক দলের কর্মীরাই প্রচারণা করছে। কিন্তু গতকাল আমাদের নারী কর্মীদের বাজেভাবে হেনস্তা করেছে বিএনপির সোহাগ, আরিফসহ অন্যান্যারা। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রটিার্নিং কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, আমি এ ঘটনার বিষয়ে জানিনা। আমার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।