আবদুল হান্নান -চকবাজার,চট্টগ্রাম।
“১৪০০ শহীদের রক্তের ঋণে ২১১ জুলাই যোদ্ধা পরিবার পেল পুনর্বাসন”
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে নিবেদিত “বিদায় জুলাই পুনর্বাসন প্রকল্প” আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ শেষ হয় ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, যা সম্পন্ন হয়েছে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তায়।
প্রকল্পটির উদ্যোক্তা মেজর (অবঃ) আহমেদ ফেরদৌস জানান, ১,৪০০ শহীদ ও প্রায় ২২,০০০ আহতের আত্মত্যাগের পরও রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন না হওয়ায় তিনি ব্যক্তি উদ্যোগে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম ও ঢাকায় মোট ২১১টি জুলাই যোদ্ধা পরিবারকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
এই প্রকল্পের আওতায়—
২১টি ব্যাটারি চালিত রিকশা ও
১১টি অটোরিকশা
জুলাই যোদ্ধা পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ জন গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ১৯ জনের চাকরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু) ও জাতীয় বার্ন ইউনিটে ৪৪ জন আহত যোদ্ধার চিকিৎসা, যাতায়াত, ও আবাসন বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত মোট পরিবারের প্রায় ১ শতাংশকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
মেজর (অবঃ) আহমেদ ফেরদৌস তার বক্তব্যে বিজিবি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, সেনা কল্যাণ সংস্থা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“আমরা হয়তো মাত্র ১ শতাংশ পরিবারকে সহায়তা করতে পেরেছি, কিন্তু হাল ছাড়িনি। একদিন এই পরিসর আরও বড় হবে—ইনশাআল্লাহ।”