,

কর্ণফুলীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের অনুষ্ঠানে হত্যা মামলার আসামি ও যুবলীগ নেতার উপস্থিতি

 

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা:

কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের মতবিনিময় সভায় বিতর্কিত ব্যক্তি মো. ওসমানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভার বিভিন্ন ছবিতে তাকে দেখা যায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা কেয়া এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজিব কান্তি রুদ্র।

জানা গেছে, মো. ওসমান সাংবাদিকতা পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আগের মতোই দাপটের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতি মাসে নিজের, পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য ওষুধ নিয়ে যান।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী ঠিকমতো ওষুধ পান না। সেখানে প্রশ্ন উঠেছে—ওসমান কীভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওষুধ সংগ্রহ করছেন?সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যাঁরা তাকে সহযোগিতা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. ওসমান কর্ণফুলী থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি এবং একটি কথিত প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভাঙচুর, দখল ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় চান্দগাঁও থানার মামলার তালিকাভুক্ত আসামি হিসেবেও তার নাম রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ওই মামলায় ইতোমধ্যে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেছে বলেও জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একজন বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেন।

সাবেক ছাত্রদল নেতা মনোয়ার হোসেন বলেন, “ওসমান অতীতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে নিজেকে রক্ষা করতে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা জানান— রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে তাঁকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। উভয় পক্ষ থেকে সাংবাদিক হিসেবে দুইজনকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক ওসমান দাওয়াত পেয়েছেন।