বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের উদ্যোগে SSC, দাখিল ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এ GPA-5 প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘GPA-5 Felicitation 2026’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর স্মরণিকা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি মোমিনুল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এনায়েত উল্লাহ পাটোয়ারী; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. বরকত আলী; চাকসুর ভিপি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি; বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবক এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. এ. কে. এম. ফজলুল হক এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের অ্যাডজাঙ্ক্ট ফ্যাকাল্টি প্রকৌশলী আশরাফ রাহেব।
অনুষ্ঠানে বক্তারা GPA-5 প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও জীবনের প্রকৃত সাফল্যের জন্য মেধার পাশাপাশি দক্ষতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করা প্রয়োজন। তারা শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও মেধাকে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
মোবাইল ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকার আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে নানা ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। মোবাইল ফোন, রিলস, টিকটক, অনলাইন বিনোদন ও অপ্রয়োজনীয় আড্ডায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, তরুণ ও কিশোরদের মাদকাসক্তি এবং কিশোর গ্যাং-সংস্কৃতি বর্তমানে সমাজের অন্যতম বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে তরুণদের একটি অংশ অপরাধ ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। নিরাপদ সমাজ গঠনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সমাজে হত্যাকাণ্ড, নিখোঁজ ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনায় পরিবারগুলোর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি এসব সমস্যা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
GPA-5 বড় অর্জন, তবে এর সঙ্গে রয়েছে দায়িত্ব
GPA-5 প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এই অর্জন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নিয়ামত। এর পেছনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও প্রচেষ্টা রয়েছে। তাই এই সাফল্যকে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে না দেখে ভবিষ্যৎ জীবনের বৃহত্তর লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি ধাপ হিসেবে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে। কিন্তু নানা কারণে অনেকেই পরবর্তী পর্যায়ে এসে ঝরে পড়ে। যারা এই পর্যায়ে এসে GPA-5 অর্জন করেছে, তাদের সামনে এখন উচ্চশিক্ষায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের সামনে এখন আরও বড় প্রতিযোগিতা। এই অর্জনকে শেষ অর্জন হিসেবে দেখলে হবে না; বরং এখান থেকেই নতুনভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।”
বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান
শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে-এর উদাহরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকা সত্ত্বেও ফ্যারাডে বই পড়া, বিজ্ঞানবিষয়ক সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং নিজের প্রচেষ্টায় পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যান। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী হামফ্রি ডেভির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান এবং অধ্যবসায় ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিজ্ঞানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, মানুষের জীবনে প্রতিকূলতা থাকতেই পারে; কিন্তু লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়মিত পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
উচ্চশিক্ষায় বড় লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ
শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, GPA-5 অর্জনের পর এখন তাদের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। নিজেদের আগ্রহ, যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি কোথায় পড়তে চাই, কোন বিষয়ে পড়তে চাই এবং ভবিষ্যতে কী করতে চাই—এ বিষয়ে এখন থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। লক্ষ্য যত বড় হবে, সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য পরিশ্রম ও প্রস্তুতিও তত বেশি প্রয়োজন হবে।”
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, অতিথি ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।