,

 

চট্টলাসংবাদ প্রতিনিধি *

পুলিশের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন, গুরুতর শারীরিক আঘাত ও ঘুষ দাবির অভিযোগে চট্টগ্রামের সিনিয়র দায়রা বিশেষ জজ আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় তৎকালীন সাতকানিয়া থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী সাতকানিয়ার উত্তর এওচিয়া এলাকার মোহাম্মদ পারভেজ। আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি স্পেশাল মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (২৩ আগস্ট) মামলাটির বিষয়ে আদালতে শুনানি হয়েছে এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৬ মে দুপুরে সাতকানিয়া থানার অভ্যন্তরে পারভেজকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ২৯ মে পর্যন্ত তাঁকে হেফাজতে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ সময় তাঁর দুই হাতে গুরুতর জখম করা হয় এবং বাম কানে আঘাতের কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। তাঁর মুঠোফোনও নিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলার বাদীপক্ষের দাবি, নির্যাতনের ঘটনার পর তাঁর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এ-সংক্রান্ত মেডিকেল রিপোর্ট, হাসপাতালের চিকিৎসার কাগজপত্র এবং প্রায় দুই মাস তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার নথি তাদের কাছে রয়েছে। এসব নথি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে।

মামলায় তৎকালীন সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তারেক ইমরোজ ও এসআই ফজলুলকে আসামি করা হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সৈয়দ তারেক ইমরোজ বর্তমানে আরআরএফ সিলেটে কর্মরত। তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জন সহযোগী পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা, নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে দণ্ডবিধির ১০৯, ১৬৬, ২২০, ৩৪২, ৩০৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩৭৯, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারার কথা নথিতে রয়েছে।

বাদী মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ২০১৪ সালের ওই ঘটনায় তিনি গুরুতর নির্যাতনের শিকার হন। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তাঁর কাছে চিকিৎসা ও হাসপাতালের প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় তিনি ন্যায়বিচারের বিষয়ে আশাবাদী।

তবে মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট