,

পেকুয়ায় অনলাইন জুয়ার কালো থাবা: নেপথ্যে ‘এজেন্ট আনিস’ ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় অনলাইনের রঙিন ফাঁদে পা দিয়ে ধ্বংসের মুখে পড়ছে উঠতি বয়সী যুবসমাজ। প্রতিনিয়ত হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনে ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার মরণনেশা। অভিযোগ উঠেছে, পেকুয়ায় এই জুয়ার সাম্রাজ্য পরিচালনা ও তা বিস্তারের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছেন আনিস (৩০) নামের এক ব্যক্তি। শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়, জুয়ার পাশাপাশি এলাকায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঘটানোর নেপথ্যেও তার নাম উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত আনিস পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্যাঘোনা এলাকার আক্তার হোসেনের বড় ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনলাইন জুয়ার স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মগনামা সহ পেকুয়ার বিভিন্ন স্পটে কিশোর ও যুবকদের দিন-রাত মোবাইলের স্ক্রিনে মগ্ন থাকতে দেখা যায়। বিভিন্ন লোভনীয় অফার ও দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের অনলাইন জুয়ার অ্যাপসে যুক্ত করা হয়। এতে করে বিপুল পরিমাণ অর্থ খুইয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার। জুয়ার টাকা জোগাড় করতেই এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসাথে জুয়ার আড্ডায় সহজে মিলছে নানা ধরণের মাদকদ্রব্য।
এ বিষয়ে স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল ইসলাম তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনলাইন জুয়া আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী তরুণরা পড়াশোনা ছেড়ে এসব জুয়ার অ্যাপে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আনিসের মতো এজেন্টের কারণে অনেক পরিবার আজ দেউলিয়া হওয়ার পথে। সামাজিকভাবে এদের প্রতিরোধ করতে হবে, পাশাপাশি প্রশাসনকেও কঠোর হতে হবে।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানান, প্রকাশ্যে এই অপকর্ম চললেও কোনো এক অজানা শক্তিতে আনিস তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিস্তার রোধে পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন মাদকবিরোধী র‍্যালি সহ নানা ধরণের সচেতনতামূলক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এসব অপরাধী আড়ালে থেকে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এলাকার সমাজসেবীরা।এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমরা অপরাধীদের তালিকা তৈরি করছি। তথ্য-প্রমাণ পেলে শিগগিরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পেকুয়ার যুবসমাজকে রক্ষা করতে স্থানীয় সচেতন মহল, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনকে যৌথভাবে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলার সুশীল সমাজ।