,

আওয়াজে মোদিস্থান ও তার পিছনের ইতিহাস তুলে ধরেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর আহমেদ ফেরদৌস (অব:)

গতকাল শনিবার রাজনৈতিক বিশ্লেষক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর আহমেদ ফেরদৌস তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য শেয়ার করেন।

তিনি বলেন,”আজকের বিশ্বের সকল চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের  যুদ্ধ কতদিন চলবে? এ যুদ্ধে কোন কোন দেশ জড়িয়ে পড়ছে? একদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বনাম জনগনের নিজে বেঁচে থাকার অর্থনৈতিক যুদ্ধে স্বীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে থাকার যুদ্ধে প্রতিটি মানুষই ইরান – ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সরাসরি জড়িত না হয়েও যুক্ত।

লুটেরা মাফিয়াদের সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য বনাম মধ্যপ্রাচ্য ও বিশেষ করে জ্বালানী সমৃদ্ধ দেশগুলোকে বষে আনা নিয়েই এ যুদ্ধ। লিবিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ধ্বংসের পর ক্ষয়িষ্ণু পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে একটু দৃষ্টিপাত করাটা জরুরী।

ক’দিন আগে দেখলাম দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে কিভাবে ট্রাম্প প্রশাসন ছিনতাই করে সেদেশ থেকে কমান্ডো ফোর্স দিয়ে উঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে অন্তরীন করলো। গনতন্ত্রের নামে এ যেন স্বৈরতন্ত্র। এর কিছুদিন পর আজকের এই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ।

দু’সপ্তাহ পেরুনো এ যুদ্ধে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য যখন লন্ডভন্ড, হরমুজ প্রণালী যখন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য বন্ধ ও নিরাপত্তার হুমকিস্বরূপ, তখন গতকাল সংবাদমাধ্যমে জানলাম আমাদের সু-প্রতিবেশী ভারতের একটি তেলের ট্যাংকার ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করে দেয়। ভারত ইরান দুপক্ষেরই বক্তব্য পাল্টা বক্তব্য চলমান যা আমাদের আজকের বিষয় নয় বিধায় আমরা মূল আলোচনায় চলে যাই।

ভারত ইরানকে আক্রমনের হুমকি দিয়েছে এরকম একটা সংবাদ বাংলাদেশের প্রথম সাড়ির এক পত্রিকার ডেপুটি এডিটরের ফেসবুক ওয়ালে দেখে কৌতুহল জাগলো।

তার আগে চলুন না জেনে নেই ভারত ১৯৪৮ সনে স্বাধীনতার পর কতগুলো যুদ্ধে জড়ায় ও এর পরিনতি।

১৯৬২ ও ১৯৭১ সনে ভারত যুদ্ধে জড়ায় পাকিস্তানের সাথে। ৭১ এ আসলে যুদ্ধ করেছে পূর্ব পাকিস্তানবাসী, গেরিলা ফোর্স, পূর্ব পাকিস্তান সশস্ত্রবাহিনীর বিদ্রোহী অফিসার ও জওয়ানরা।

১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু ভারতীয়রা এ যুদ্ধে আমাদের তথা বাংলার বীরদের বিজয় ছিনতাই করেছে। আমাদের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী ঐতিহাসিক রেস কোর্স ময়দানে সারেন্ডার অনুষ্ঠানে কেন অনুপস্থিত – তা অনুসন্ধান করলে লজ্জা পাবে ভারতীয় জনগন যারা আমাদের বন্ধু। কিন্তু হিন্দুত্ববাদী বিজেপীর মোদী সরকার বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারে না। তাদের আমাদের প্রতি অপ্রতিবেশীসূলভ আচরণে বাংলাদেশের বেশীর ভাগ জনগন ভারত পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে ভারতের পরাজয়ে উল্লাসিত হয়।

আপনারা কারগিল যুদ্ধ, চীনের সাথে ভারতের যুদ্ধের স্মৃতি কল্পনা করে কি আবিষ্কার করতে পারেন?

ভারতীয় বিমান বাহিনীর ফ্রান্সে এয়ার শো-তে বিমান দূর্ঘটনা, কারগিলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর অফিসার পাকিস্তান হতে বন্দী বিনিময়, ওদিকে ভারত চীন যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শোচনীয় পরাজয়। বলিউডে ভারতের যুদ্ধের সিনেমা আর বাস্তবতায় আকাশ পাতাল পার্থক্য।

রাষ্ট্র বাংলাদেশ হিসাবে ভারতের সাথে বাংলাদেশের যুদ্ধের সরাসরি অভিজ্ঞতা না থাকলেও সীমান্তে খোঁচাখুঁচির ঘটনা কম নয়। বিএসএফ যেমন ফেলানীর লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে, তেমনি আমাদের গর্বিত বিডিআর রৌমারি পাদূয়ায় দাদাদের ইজ্জতের ফালুদা বাজিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দেয় বাংলাদেশের সাথে লড়তে এলে ধূতীর নীচে লোহার অন্তর্বাস পড়া শ্রেয়। যদিও ষড়যন্ত্র ও চাণক্য নীতিতে চ্যাম্পিয়ন দাদারা আমাদের স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহায়তায় ২৫শে ফেব্রুয়ারী বিডিআর হত্যা চালিয়ে ৫৭ জন বীর বাংলাদেশী সামরিক অফিসারদের খুন করে। কাপুরষ লড়ে ষড়যন্ত্রকারীদের সহায়তায়। বাংলাদেশ লড়েছে ও লড়বে বীরত্বের সাথে।

আমাদের বিডিআর/বিজিবির অপারেশনের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে প্রেষণে যাওয়া কতগুলো বীর, চৌকষ, দক্ষ, দেশপ্রেমিক অফিসার। এদের প্রশিক্ষণে এক একজন বিজিবির সৈনিক সীমান্ত এক একটা অতন্দ্র প্রহরী হয়ে উঠে। এরজন্যই বিজেপী সরকারের টার্গেট কিভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত বা নষ্ট করা যায়। আমাদের কিছু গাদ্দার উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক আমলা, অসত ব্যাবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের কারণে ভারতের সে অভিপ্রায় অনেকাংশে সফল হলেও আমরা ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে দেশপ্রেমিক প্রশাসন গড়ে তুলবো এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা।

আওয়াজে মোদিস্থান-

ভারতের যুদ্ধের এ গৌরবময় (!) ইতিহাসের পরও ভারত ইরান আক্রমণ কতটা সম্ভব তা বিচার করবার প্রজ্ঞা আপনাদের উপর ছেড়ে দিতে চাই। একটা নোক্তা দিয়ে রাখলাম। সামরিক কৌশল, যুদ্ধাস্ত্র, সামরিক সরন্জাম ও সাহসের বিবেচনায় ভারত কি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা ইরানের ধারে কাছে আছে?”