,

পেকুয়ায় বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শবনব নামের এক তরুণীর।

চট্টলাসংবাদ প্রতিনিধি –

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকায় বিয়ের প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদ পেতে প্রবাসীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। কথিত ওই তরুণীর নাম শবনম মুস্তারিন। তার পাতা প্রতারণার জালে পড়ে বর্তমানে অনেক প্রবাসী ও স্থানীয় যুবক সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শবনম মুস্তারিন প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক) ব্যবহার করে প্রবাসীদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে এবং দৈহিক সৌন্দর্যের প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসীদের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর পরিবারের সমস্যা বা বিয়ের খরচের কথা বলে বিভিন্ন ধাপে বিকাশ, নগদ কিংবা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল পেশা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী প্রবাসী জানান, ইমুতে পরিচয়ের পর শবনমের সাথে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে শবনম তার কাছ থেকে টাকা দাবি করতে শুরু করেন। ভুক্তভোগী প্রবাসী বিভিন্ন সময়ে বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাওয়ার কিছুদিন পরই ওই তরুণী যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং ইমু-হোয়াটসঅ্যাপে তাকে ব্লক করে দেন। ওই প্রবাসীর দাবি, টাকা লেনদেনের পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত আছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কেবল আর্থিক প্রতারণাই নয়, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলার তরুণদের টার্গেট করে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল বা কটেজে ডেকে নিয়ে আসত। সেখানে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে বড় অংকের অর্থ আদায় করার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন নামি-দামি হোটেলে মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার বিষয়েও স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন রয়েছে।অভিযুক্ত শবনম মুস্তারিন পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম জগুরিয়া এবং মায়ের নাম স্বপ্ন বলে জানা গেছে। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাইমন আজম জয় নামে এক ব্যক্তির স্ত্রী পরিচয় গোপন করে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত কারো সাথে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই তরুণীর প্রতারণার বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।